জুয়েল রানা
ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করে ভাগ্য বদল ও কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরে রফিকুল। উপজেলার গজারিয়া গ্রামে এক একর জমি ভাড়া নিয়ে তিনি এ জাতের আখ চাষ করেছেন।
উপজেলার রামখা গ্রামের রফিকুল ইসলাম সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর পাস করে একটি কোম্পানিতে চাকরি নেন। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ (বø্যাক সুগার কেইন) চাষ করে প্রথমবারেই দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন রফিকুল। তার দেখাদেখি উপজেলার অন্যান্য চাষিরাও এ জাতের আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলার কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, আখগুলোর বাইরের অংশ দেখতে কালো খয়েরি। লম্বায় সাধারণত ১২ থেকে ১৬ ফুট। দেশীয় আখের মতো হলেও এর আছে বেশ কিছু ভিন্নতা। এই আখের কান্ড কিছুটা নরম, রস বেশি, মিষ্টি বেশি, চাষের পর লাভ বেশি। এসব কথা ভেবেই অনেক চেষ্টার পর ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসমলাম জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনলাইন ও ইউটিউব ঘেঁটে বগুড়া থেকে ছয় হাজার আখের চারা সংগ্রহ করে ওই জমিতে রোপণ করেন। স্থানীয় কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী আখ ক্ষেতে জৈব সার ব্যবহার করে আখের চারার যতœ নেওয়া শুরু করেন। চারা রোপণের আট মাসের মাথায় আখ বিক্রির উপযোগী হয়ে গেছে।
রফিকুল আরোও বলেন, তাঁর এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ছয় হাজার চারা থেকে গজিয়ে বর্তমানে তার বাগানে ২৫ হাজার আখ বিক্রিযোগ্য হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকার আখ ও দুই লাখ টাকার চারা বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলার গজারিয়া গ্রামে ওই আখ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ফিলিপাইনের কালো জাতের এ আখ প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট লম্বা হয়েছে। গোড়া থেকে পুরো কান্ডই মোটা ও কিছুটা নরম। আঙুলে একটু চাপ দিলে রস পাওয়া যায়। রস যেমন রয়েছে, তেমনি মিষ্টিও বেশি। লালচে বা কালো খয়েরি বা কালো রঙের আখ চাষের পর আশপাশের গ্রামের চাষিরাও দেখতে ভিড় করছেন। বিভিন্ন নার্সারি মালিক ও কৃষিভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আখক্ষেত পরিদর্শন করে চারা কেনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
রফিকুলের মত উপজেলার গজারিয়া গ্রামের চাষি মিনহাজ উদ্দিনও আখ চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
মিনহাজ বলেন, রফিকুলের কাছ থেকে চারা নিয়ে আমিও আখ চাষ করবো।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, আমার জানামতে সখীপুরে বিদেশী জাতের এ কালো আখ আর কেউ চাষ করেনি। রফিকুলকে আখ চাষে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রথম ফলন পেতে খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ফলন পেতে তার খরচ কম হবে।
রফিকুলের দেখাদেখি সখীপুরে অনেকেই এ জাতের আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উপজেলার কমপক্ষে অর্ধশত চাষি এবার ফিলিপাইনের কালো আখ চাষ করবেন বলে আমাদের কাছে পরামর্শ নিয়েছেন।
এসএস/রানা