নিজস্ব প্রতিবেদক
টাঙ্গাইলের সখীপুরে করটিয়া জমিদার ওয়াক্ফ স্টেটের মুতওল্লী পরিচয়ধারী এক ভুয়া প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হৃদয় ইসলাম বাবু (৫০) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সখীপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় গজারিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে হৃদয় ইসলামকে একমাত্র আসামি করে সখীপুর থানায় প্রতারণা মামলা করেছেন। সে ঢাকার সাভারের ঘ/৮, ডেইরিফার্ম স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার মিন্টু মিয়ার ছেলে।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয় ইসলাম মাসখানেক আগে সখীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে কচুয়া সড়কে কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে জমিদারদের নাতি ও ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওয়াকফ স্টেটের মুতওল্লীর প্রতিনিধি পরিচয়ে ভূমি মালিকদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। ওই ব্যক্তি ওয়াকফ স্টেটের প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াকফ স্টেটের জমির মালিকানা সংশোধনে প্রতি একর জমির দলিল খরচ ৩০ হাজার, প্রতিটি পরচা তৈরি পাঁচ হাজার করে টাকা নিচ্ছিল।
সূত্র জানায়, দলিল ও পরচা সংশোধন না করলে পরবর্তী ডিজিটাল জরিপে মালিকানা স্বত্বে ত্রুটি থাকবে বলে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে ওই প্রতারক গ্রেপ্তারের পর ভূমি কার্যালয়ে তার প্রতারণা ফাঁদের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ভূমি মালিকদের এসব তথ্য জানাতে, তাদের বিশ্বাস জমাতে ও টাকা সংগ্রহে স্থানীয় কয়েকজন নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগেও একাধিক প্রতারকচক্র জমিদারদের স্বজন পরিচয়ে ভূমি মালিকদের সঙ্গে প্রতারণার জাল পেতেছিল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ওয়াক্ফ স্টেটের মুতওল্লীর (মোতোয়ালি) প্রতিনিধি হিসেবে জমি বিক্রির অভিযোগ পেয়ে সাইনবোর্ডবিহীন ওই কক্ষে যাই। প্রতিনিধি নিয়োগের পাওয়ার অব এটর্নি, জেলা প্রশাসকের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে তিনি সঠিক কোনো প্রমাণপত্র দিতে পারেননি। ভুয়া প্রতিনিধি হিসেবে ভূমি মালিকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণা মামলা করা হয়েছে।
সখীপুর থানার ওসি মো. রেজাউল করিম বলেন, জমিদারের নাতি পরিচয়কারী হৃদয় ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিকে কারাকারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এসএস/জুয়েল