সখীপুর প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অপহরণের ৪৮ ঘন্টা পর তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়ার (৯) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বনের ভেতর একটি ড্রেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। দাড়িয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনসার আলী আসিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামিয়া উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের রঞ্জু মিয়ার মেয়ে এবং দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা রঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সখীপুর থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও সামিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৭টায় ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়া শেষ হলে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বের হয়।
পথে একটি দোকানে সহপাঠীরা কেনাকাটা করতে দাঁড়ালে সে একাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। এদিকে, বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় মা রুপা বেগম শিক্ষককে ফোন দিয়ে জানতে পারেন তার মেয়ে অনেক আগেই চলে গেছে। পরে মা মেয়েকে খুঁজতে বের হলে বাড়ির কাছাকাছি একটি স্থানে মেয়ের ব্যবহৃত জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পর তার মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি অডিওবার্তা আসে।
অডিওবার্তায় বলা হয়, ‘আসসালামু আলাইকুম। আপনার মেয়ে ভালো আছে। টাঙ্গাইলে আছে, আজকের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা দিলে মেয়ে পাবেন। বিষয়টি পুলিশ ও এলাকার কাউকে জানাবেন না। জানালে আপনার মেয়ের ক্ষতি হবে’।
দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকার বলেন, বিদ্যালয় আঙ্গিনা পরিষ্কার করার জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আসতে বলেছিলাম। বুধবার সকাল ৭টার দিকে বিদ্যালয়ে আসে এবং ৯টার দিকে চলে যায়। ওই দিন কোন প্রাইভেট পড়াইনি। পরে ওই শিক্ষার্থীর মা ফোন করলে জানতে পারি মেয়েটি নিখোঁজ। আমরাও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। আজকে মেয়েটির লাশ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, বৃহস্পতিবার থানায় মামলা হয়েছে। বাড়ির পাশের একটি বনের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এসএস/জুয়েল