কাওছার আহমেদ
২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ১৪ লাখেরও বেশি৷ এদের সবাই কি ঝরে গেছে? নাহ, এদের বিরাট একটি অংশ নুরানী মাদরাসায় পড়ছে? মুলত দুই কারণে নুরানী মাদরাসায় পড়ছে৷
১. করোনাকালীন স্কুল বন্ধ থাকলে মাদরাসা খোলা ছিল এবং নতুন নতুন মাদরাসা তৈরি হয়েছে৷ যারা একবার গেছে তাদের অধিকাংশই আর ফিরে নাই৷
২. প্রাথমিকে মক্তবভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষার অভাব৷ তাই অভিভাকেরা ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি নিয়ে মাদরাসায় পড়াতে পছন্দ করছে৷ শিশু শ্রেণিতে আরবি বিষয় যুক্ত করে এবং ক্বারী নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন৷
যদি প্রশ্ন করা হয় এ সব মাদরাসার সংখ্যা পুরো দেশে কত হবে? সঠিক উত্তর দিতে না পারলেও বলা যায় বাংলাদেশে যতটা গ্রাম আছে ততটা হতে পারে বা তারচেয়ে বেশি৷
প্রতি গ্রামে নুরানী মাদরাসা থাকা একটি ভালো দিক৷ সেখানে কোরআন শেখাসহ ধর্মীয় জ্ঞান নিবে৷ এটা মক্তবের মতই৷ মক্তব শেষ করেই তো আমার আমাদের সময় স্কুলে যেতাম৷ এখন যে সারাদিন একই জায়গায় আটকানো থাকে! সে মাদরাসাগুলোর অনেকগুলোই ছোট্ট একটা বাড়িতে যেখানে বের হওয়ার জায়গাও কম!
সারাদিন বন্দিশালার মত আটকিয়ে থাকতে হয়৷ সেখানে কি কি শেখানো হয়? ইসলামে কি শুধু সেগুলোই শেখার কথা বলা হয়েছে? দারুন নাজাত একটি মাদরাসা যেখানের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেলেও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে৷ সেখানে কি আরবি তথা ধর্মীয় শিক্ষা তাদের তুলনায় কোনো অংশে কম হচ্ছে?
শিক্ষা মুলত অভিন্ন হওয়া উচিত৷ প্রতি প্রাইমারি স্কুলে একজন হাফেজ বা ভালো ক্বারী নিয়োগ দিয়ে প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা উচিত৷ অন্যদিকে মাদরাসায়ও আরবির পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষা দেয়া উচিত৷ মানুষ আবেগ প্রবণ৷ মৌলবি সাহেবেরা মানুষেরকে বুঝিয়ে এবং ধর্মের দল সৃষ্টি করে এখানে সেখানে কওমি মাদরাসা স্থাপন করে চলছে৷ সৌদিসহ মধ্য প্রাচ্যে কি এভাবে ধর্মীয় শিক্ষা চলছে?
কোনো নিয়ম নীতি না থাকায় এখানে সেখানে গড়ে উঠা মাদরাসায় কী পড়ানো হচ্ছে তা কি মানসম্মত? যারা পড়াচ্ছেন তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কী? তাছাড়াও এখানে সেখানে গড়ে উঠা কেজি স্কুলের সংখ্যাও অনেক৷শতশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ এর নিচে৷ এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অনার্থক খরচ হচ্ছে৷স্কুলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় সজ্জিত চমৎকার ভবন৷ সুসজ্জিত কক্ষ৷ নতুন নতুন বরাদ্ধ৷ কিন্তু যাদের জন্য এত আয়োজন তারাই তো থাকছে না!
প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় অস্তিত্ব সংকটের দিকে পরতে যাচ্ছে অনেক উচ্চ বিদ্যালয়৷ ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হার গত বছরই অনেক কমেছে৷ প্রাথমিকের দিকে তাকালে মনে হয় ভর্তি বাড়ার আশংকা আর নেই৷শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিকল্পতি হওয়া উচিত৷ কত কিলোমিটারের মধ্যে কতটা স্কুল ও মাদরাসা থাকবে তা উল্লেথ থাকা উচিত৷ স্কুল ও আলীয়া মাদরাসায় একই ধরনের শিক্ষা চালু থাকলেও কওমি তথা নুরানীগুলো ব্যতিক্রম৷
একজন শিক্ষার্থী হাফেজ হয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র বা অফিসার হলে দেশের অধিক লাভ হবে৷ হাফেজ ছেলে দুর্নীতির সাথে নাও জড়াতে পারে৷ এতে কি ধর্মের কোনো বাধা আছে? মাদরাসায় পড়ে শুধু ইমাম হতে হবে, দোয়া বিক্রি করতে হবে, ওয়াজের বক্তা হতে হবে কেন?
ওয়াজের স্টেজে উঠলে তো এখন দেখা যায় প্রায় ৯০% বক্তা ধর্মীয় বয়ানের জন্য গেলেও রাজনৈতিক বয়ান কিংবা অন্য বক্তার গিবত, দুর্নাম ও অপবাদ দিতে ব্যস্ত থাকে৷ এটার চেয়ে কি মাদরাসায় পড়ে সাধারণ পেশা গ্রহণ করা বা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ পেশা বেছে নেয়া উত্তম নয়?
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পূর্বে ঐতিহ্য ফিরে আনতে শিশু শ্রেণিতে আরবি শিক্ষা চালু করতে হবে৷ প্রতিটি স্কুলে এতজন করে ক্বারী সাহেব নিয়োগ দিয়ে শিশু শ্রেণি থেকেই বাংলা, ইংরেজি, গণিতের পাশাপাশি মক্তব শিক্ষা চালু করতে হবে৷ তবেই অভিভাবকেরা সন্তানদেরকে প্রাথমিক স্কুলমুখি করবে বলে ধারনা করা যায়৷
এসএস/জুয়েল