সখীপুর প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাদিঘী গ্রামের দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী আব্দুল জলিল দুইজন পুত্রসন্তান ও দুইজন কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন।
আব্দুল জলিল ইছাদিঘী গ্রামের মৃত রেজাউল করিমের কনিষ্ঠ সন্তান। দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী আব্দুল জলিল ও আঁখি দম্পতি ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। ২০১২ সালে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান। বর্তমানে আব্দুল জলিল দক্ষিণ কোরিয়ার একটি টেক্সটাইল কোম্পানীতে হিসেবে কর্মরত আছেন ।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তাঁর সহধর্মিনী কে দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে যান। সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর আব্দুল জলিল তার সহধর্মিনীকে এক বছর দক্ষিণ কোরিয়ার গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করান। সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর ৩ মাস পূর্ণ হওয়ার প্রারম্ভে ৫ ই এপ্রিল উইজংবু সংমু হাপাতালে অভিজ্ঞ গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ ৩০ জনের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করে তারপর আব্দুল জলিল এর সহধর্মীনি আঁখির সিজার সম্পন্ন করা হয়। সিজার শুরু হয় দক্ষিণ কোরিয়ার সময় অনুযায়ী সকাল ৮ টা ২৩ মিনিটে এবং সিজার শেষ হয় ৯ টা ২৮ মিনিটে। দম্পতি আখির প্রথম কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় ৮ টা ৩৬ মিনিটে, দ্বিতীয় কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় ৮ টা ৩৭ মিনিটে, তৃতীয় পুত্র সন্তান হয় ৮টা ৩৮ মিনিটে এবং চতুর্থ পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় ৮ টা ৩৯ মিনিটে।
আব্দুল জলিল বলেন, আগামীকাল ৮ এপ্রিল আমার সহধর্মিনী আঁখিকে চিকিৎসকরা হাসপাতাল থেকে ছুটি (রিলিজ) দেবেন।আমাদের চার সন্তানকে (নবজাতক) দক্ষিণ কোরিয়ার উইজংবু সংমু হাসপাতালে আরও এক মাস চিকিৎসাধীন রাখবেন।
আব্দুল জলিল আরোও বলেন, মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে আমরা সন্তান চেয়েছিলাম। বিয়ের পর দীর্ঘদিন আমাদের কোন সন্তান হয়নি। দীর্ঘদিন পরে হলেও মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সন্তান দান করেছেন। আমার সন্তানদের যাতে মহান রাব্বুল আলামিন নেক হায়াত দান করেন, সুস্থতা দান করেন সেজন্য আমি আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই।
দক্ষিণ কোরিয়ার উইজংবু সংমু হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী জলিল আঁখি দম্পতির ভূমিষ্ট হওয়া প্রথম কন্যা শিশুটির ওজন ছিল ১৮০০ গ্রাম, দ্বিতীয় কন্যা শিশুটির ওজন ছিল ১৮০০ গ্রাম ও তৃতীয় ও চতুর্থ পুত্র সন্তানের ওজন ছিল যথাক্রমে ১৬০০ গ্রাম। চার শিশু একসাথে জন্ম নেওয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি বিরল ঘটনা।
অপারেশনের দিন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ, শিশুরোগ, এনেস্থেশিয়া, অপারেটিং রুম, নবজাতক কক্ষ এবং ডেলিভারি রুম থেকে প্রায় মোট ৩০ জন মেডিকেল স্টাফ সন্তান প্রসবের সময় একত্রে কাজ করেছে। প্রসূতি ও গাইনি বিভাগের অধ্যাপক কিমইওনহি ডেলিভারি মূল দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক কিমইওনহি বলেন, মা বর্তমানে ডেলিভারি রুমে সেবা নিচ্ছেন, এবং চার সন্তান বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (নবজাতকের) চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উইজংবু সংমু হাসপাতালের পরিচালক হান চ্যাংহি বলেন, আঁখি দম্পতি কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। চার শিশু সন্তান (নবজাতক) যেন সুস্থ থাকে সে জন্য সকলের কাছে প্রার্থনা করেছেন।
এসএস/জুয়েল