নিজস্ব প্রতিবেদক
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ৬ নম্বর কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সম্প্রতি দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। গেজেটে নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে বড়চওনা। কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ২০০ গজ উত্তরে জামাল হাঁটকুড়া, পাগলমোড় পাড়া, ধলীপাড়া ও কুটির শিল্প পাড়া- এ চার এলাকা নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়নের সীমানায় অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। ওই চার এলাকার লোকজন পুরনো কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ঢাকা-সাগরদিঘী সড়কের পাগলমোড় এলাকায় ভূক্তভোগী গ্রামবাসী এ কর্মসূচি পালন করে।
এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে ওই চার এলাকার পাঁচ শতাধিক লোক অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ, মহিউদ্দিন, আনোয়ার তালুকদার, রিয়াজ উদ্দিন, শাহআলম ও শামীম আল মামুন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদকে দুই ভাগে ভাগ করে ‘কালিয়া’ ও ‘বড়চওনা’ ইউনিয়ন পরিষদ নামকরণ করে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। ওই গেজেটে জামালহাঁটকুড়া গ্রামকে দুইভাগে ভাগ করে উত্তর অংশ নবগঠিত বড়চওনা ও দক্ষিণ অংশ পুরনো কালিয়া ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমরা জামাল হাটকুড়া কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছি। এখন আমাদের ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করে বড়চওনা বাজারে নেওয়া হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী পুরোনো ইউনিয়ন কালিয়াতেই থাকতে চাই ও জামালহাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে চাই।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ বলেন, আগে ২০০ গজ দূরে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে আসতাম। এখন চার কিলোমিটার দূরে নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়নে নাগরিক সুবিধা পেতে আমাদের কষ্ট হবে। আমরা পুরোনো কালিয়া ইউনিয়নেই থাকতে চাই।
এ ব্যাপারে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম কামরুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থরক্ষা কিংবা নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধার্থে তাঁরা হয়তো কর্মসূচি পালন করছে। এটি তাদের যুক্তিসঙ্গত দাবি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে যেহেতু জনস্বার্থ সংরক্ষণ করার দায়িত্বও আমার সেই দৃষ্টিতে নাগরিক সুবিধা খর্ব হোক সেটি আমিও চাই না। যেকোনো নাগরিক তাঁদের অধিকার রক্ষায় দাবি-দাওয়া করতেই পারে। আর আমি জনপ্রতিনিধি নাগরিকদের সুবিধার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজনের ক্ষেত্রে পরিষদের ও উপজেলা সমন্বয় সভার প্রথম কার্যবিবরণিতে (রেজুলেশন) ‘জামাল হাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই কেন্দ্র ও কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে জামাল হাটকুড়া গ্রামটি অন্তর্ভূক্ত ছিল। এরপর কীভাবে কী হলো কিছুই বুঝলাম না।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করেই দুইটি ইউনিয়নকে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে বেশির ভাগ জনগণেরই সুবিধা হয়েছে। যেহেতু গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। কিছু মানুষের অসুবিধা হলেও এখন আর কিছুই করা নেই বলেও জানান তিনি।
এসএস/জুয়েল