সাজ্জাত লতিফ
বয়স ৬মাস পার হয়নি। কিছু কিছু বাড়তি খাবার খেলেও দুধ দিনে দুইবার নিয়মিত খায়। মাকে না দেখলে রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। মায়ের আদর অতুলনীয়। পৃথিবীর কোনো আদরই কী তাঁর সমান হবে?
নিজের খাবার ঠিকঠাক মতো হয়নি হয়তো। পেট লেগে আছে হাড়ের সঙ্গে। পিঠের পাঁজরও বেরিয়ে গেছে। তবুও বাচ্চাকে খাওনোর ব্যাকুলতায় অস্থির গোলাপী। মালিক গোলাপীর প্রিয় খাবারের মধ্যে বেঁধে রেখেছে। কীসের ভালো খাবার, কীসের প্রিয় খাবার। গোলাপীর ছটফট ও অস্থিরতা থামছেই না। কেন থামবে। তাঁর বাবু যে বুকের দুধ খায়।
বাবু বুকের দুধ খেতো শরীর চেটেপুটে পৃথিবীর সমস্ত ভালো বাসা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতো দুঃখ কষ্ট। আদর পাবার বয়সও এটি।
কী আর করা মালিকের ইচ্ছে হইছে গোলাপীকে আল্লাহর রাস্তায় দিয়েছে। বাবুর কান্না (হাম্বা হাম্বা) যে গগনবিদারী কান্না। আকাশ বাতাস ভারী হয়ে যায়। মা যে তাকে রাতে নিয়ে ঘুমাতো, দু ‘বেলা আদর করে খাওয়াতো। ক্ষুধার যন্ত্রণা ভুলেই গেছে মাকে না দেখা’র যন্ত্রণায়। মাতো আমাকে ছেড়ে কোনো দিন -রাত কাটায়নি।
খাবারের অভাব বুঝতে দেয়নি। কেঁদে কেঁদে একটি রাত শেষ। হয়তো দিনে ফিরবে । অপেক্ষার পালা।
বাবু কী বুঝতে পারছে? মালিকের বাড়িতে কুকুরের আনা গোনা বেড়ে গেছে। হাড় নিয়ে টানা হেচরা করছে ওরা। বাবু কী জানে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর ডাকেই সাড়া দিতে হবে সকলের। কে বুঝাবে তাকে? সে বুঝবেই বা কার ভাষা? মাতো তাকে বলে গেল আসছি বাবা। কিন্তু আমাকে রেখে এতো দেরি আমার মা কোনোদিন করেনি। আজ কেন করছে?
গোলাপীও খুব কেঁদেছিল। ’ও’ হয়তো বলতে চেয়েছিল আল্লাহর রাস্তায় যেতে আমার কোনো কষ্ট নেই। আমার বাবুকে দেখে রেখো। ওকে দিনে কয়েকবার খাওয়াতে হয়। ও’ একদম ছোট, ওকে মেরো না। আমাকে ছাড়া ওর খুব খুব কষ্ট হবে। ও অনেক কান্নাকাটি করবে বিরক্ত হয়ে ওকে মেরো না। এ কথাগুলো গোলাপী বলছিল একদমই ওই হুজুরের বাঁকা ছুঁড়াটার নিচে শুয়ে।
শেষ কথাটা এ রকম ছিলো, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে যাচ্ছি। তোমাকে বলার সুযোগ হয়নি।
#আমাকে_ক্ষমা_করিস_বাপ
(লেখকঃ সাজ্জাত লতিফ, সাধারণ সম্পাদক, সখীপুর প্রেসক্লাব। লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে সংরক্ষিত)
এসএস/জুয়েল