নিজস্ব প্রতিবেদক
সড়ক নয়, যেন মৃত্যুফাঁদ। টাঙ্গাইলের ঢাকা-সাগরদিঘী সড়কের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা বাজার সংলগ্ন মৌটার পুকুর এলাকা। ২৫০ মিটারে পাঁচ বাঁক। কেড়ে নিয়েছে ৪১ তাজা প্রাণ। এরমধ্যে ২০২১ সালের এ পর্যন্ত ওই বাঁকে হারিয়েছে ছয় প্রাণ। আহত হয়েছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। নিহতরা স্কুল ও কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, গাড়ি চালক, নৈশপ্রহরি, ইনস্যুরেন্সকর্মী ও পথচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ২০০১-২০২১ সালের চিত্র এটি।
আকা-বাঁকা সড়কের পাঁচ বাঁকের দুর্ঘটনায় নিহত স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচিতদের নাম-পরিচয় জানা গেলেও দূর-দূরান্তের নিহত ও গুরুতর আহতদের হাসপাতালে পাঠানো চিকিৎসাধীন রোগীদের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আহতদের অনেকেই জীবনযুদ্ধে হেরে চলে গেছেন ওপারে। এই আকা-বাঁকা সড়ক তাদের ও পরিবারের স্বপ্ন ¤øান করে দিয়েছে। গত এক মাস সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য ও চিত্র পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ গত ২২ মে সখীপুর সরকারি মুজিব কলেজের সহকারী অধ্যাপক (অব.) জয়নাল আবেদীন নিজ বাড়ি আড়াইপাড়া থেকে বড়চওনা বাজারে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এছাড়াও গত দুই দশকে উপজেলার সখীপুর গ্রামের তাহেরন নেছা (৬০), বড়চওনা গ্রামের শামীম (৫), সাঈদ শিকদার (৩০), সুমন শিকদার (১৮), হায়দার শিকদার (৫৬), সাদিয়া (১৬), আবদুল আলীম (১৭), সাখাওয়াত (৩৫), নওশের (৪০), মোখছেদ (৭০), রফেজ (৪০), কুতুবপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩০), জিতেশ্বরী গ্রামের একাব্বর (৪৫), ঘোনারচালার আমজাদ হোসেন (৫০), কালিদাস গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক (৪০), বানিয়ারসিট গ্রামের জামাল হোসেন (৫০), ঘাটাইলের সাগরদিঘী গ্রামের সাইফুল ইসলাম (২৮), কালিহাতী উপজেলার বর্গা গ্রামের শিক্ষক নুরুল হুদা (৩২), আসমা (৮), শাহাদৎ (২২), মির্জাপুর উপজেলার হাটুভাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার খান (৪০), ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা গ্রামের প্রকৌশলী সোলায়মান (৬২), জামালপুরের রাখাল শাহা (২৫)। খোঁজ নিয়ে এদের নাম-ঠিকানা জানা গেছে। কিন্তু জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলার ১১জন গরু-মহিষ ব্যবসায়ী এবং মধুপুরের ছয়জন আনারস ব্যবসায়ী ওই বাঁকের ঘটনাস্থলে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও তাদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, নিহতের পরিবার ও অধিকাংশ আহতরা সুস্থ হয়ে প্রতি বছর এই এলাকায় এসে মানত(শিরনি) করেন। তারা এই স্থানটিতে এসে স্বজন হারানোর কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রতিটি দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্র্শী আতিকুল হক ছমির মাস্টার জানান, ওই পাঁচটি বাঁকের মাঝামাঝি তার বাড়ি। মাঝেমধ্যেই মধ্যরাতে চিৎকার ও কান্নায় ঘুম ভাঙে। তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে যাতে আর অকালে প্রাণ দিতে না হয়, সেজন্য যান চলাচলে নিরাপদ সড়ক গড়তে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ইউএনও চিত্রা শিকারী বলেন, ওই সড়কটি সোজা করার আগে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড সেঁটে দেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের সভায় প্রস্তাব করা হবে।
এসএস/জুয়েল