মো. আমিনুর রহমান
আমাদের দেশে দিন দিন করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও বিশ্বে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। সে প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি লক ডাউন কিছুটা শিথিল করার ঘোষনা দিয়েছে। এই ২টা দেশ প্রতিটি কাজ খুব পরিকল্পনা মাফিক। যদিও তাদের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অনেক উন্নত।
স্বীকার করতে দ্বিধা নাই, আমাদের দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ততটা উন্নত নয়। কিন্ত জনসংখ্যার দিক দিয়ে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে। ইতোমধ্যে WHO সতর্ক করে বলেছে, বাংলাদেশে প্রায় ২০ লক্ষ লোক আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকগন বাংলাদেশ হতে ত্যাগ করেছে। নেপাল, ভুটান এমনকি মালদ্বীপও বাদ যায় নাই। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ হতে অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাঠাবে বলে বিভিন্ন রাষ্ট্র বাংলাদেশকে জানিয়েছে, যা বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রথম দিকে বিভিন্ন দেশ হতে আগত প্রবাসীরা সঠিকভাবে কোয়ারেন্টিন মানল না। যার ফল বাংলাদেশে আজ করোনার আমদানী। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, জাতি হিসেবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা কোন নিয়ম কানুন মানার চেষ্টা করি না। সে কারনে আমাদের দেশ অনিয়মটাই নিয়মে পরিনত হয়েছে। লোকজনও তাই কম গুরত্ব দেয়; তাই নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না।
আবার দেখা যায়, যার কাজের পরিধি যেভাবে নির্ধারন করা হয়েছে (সরকারি আইন বা রীতি দ্বারা লিপিবদ্ধ করা হোক না কেন) তিনি বা তারা নিয়মানুযায়ী সঠিকভাবে কাজ বা দায়িত্ব পালন করছেন না।
আবার দেখা যাচ্ছে যে, করোনার এই দুর্ভোগের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে দাবী উপস্থাপন করেছেন। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি যে যার মতো করে সরকার তথা রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে, আর আমাদের দেশে চিত্র অনেকটাই উল্টো প্রতীয়মান হচ্ছে। হাস্যকর!! সহযোগিতার পরিবর্তে উল্টো সুবিধা চাচ্ছে!!!
আমাদের এই দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারনে, প্রথমে গার্মন্টেস মালিকদের জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ঝাঁক বেঁধে আসলো। আবার পরের দিন বেশির ভাগ গার্মেন্টস ছুটি দিয়ে ঝাঁক বেধে আবার দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হল। ফল কি হল, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জে করোনার বিস্ফোরন এবং এ সকল এলাকা হতে পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনাকে বিস্তার লাভে সুযোগ দেয়া হল।
পরবর্তী কয়েকটি গার্মন্টসে বেতনের দাবীতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের মত কর্মকান্ড দেখা গেল। আবার ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় জানাযায় দেখা গেল লক্ষাধিক মানুষের ঢল।
এ সকল ঘটনার প্রস্তুতির জন্য দরকার পূর্ব পরিকল্পনা। তাহলে করোনার বিস্তার রোধ করা যাবে। নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, নেপাল যেভাবে করোনা প্রতিরোধ করেছে, তা নি:সন্দেহে প্রশংসনীয়। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা ঘোষনা দিয়েছেন, আগামী ৬ মাসের জন্য তাঁরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ২০ শতাংশ কম দেয়া হবে। এর কারন একটাই দেশ প্রেম ও দায়িত্ববোধ।
আমাদের করোনার ঝুকির সময় যে সকল বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল, এখন হতে যদি এসকল দুর্ঘটনা রোধ করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বড় ধরনের বিপদ সংঘটিত হতে পারে। আমাদের পূর্ব পরিকল্পনা দরকার। যার যে কাজ তাঁকে সে কাজটি করা উচিত। কোন মতেই বড় ধরনের লোক সমাগম করতে দেয়া ঠিক হবে না। এর জন্য সব সময় প্রস্তুতি গ্রহন করা দরকার।
বাংলাদেশে মেডিক্যাল সামগ্রী এমনিতে স্বল্পতা আছে। প্রয়োজন অনুপাতে স্বাস্হ্য বিভাগের লোকজনও কম। তাই কোন ব্যক্তি করোনার উপসর্গ দেখা দিলে, তিনি তথ্য গোপন করে; তাহলে তিনি উপায়ন্তরে স্বাস্হ্য কর্মী ও জনগণকেই বিপদে ফেলে দিবেন। এছাড়া অনেকে তথ্য গোপন করছেন। যা সরকারকে তথা রাষ্ট্রকেই বিপদে ফেলে দিছেন।
তাই আমাদের দরকার সচেতনাবোধ, মানবিকতাবোধ, দায়িত্ববোধ সর্বোপরি দেশপ্রেম। অনেকে এর প্রমান রাখছেন। তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট আন্তরিক। তিনি আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাই, আমাদের উচিত হবে সহযোগিতা করা। সাহায্যের হাত বাড়ান।
আল্লাহ সকলকে রক্ষা করুন।
লেখকঃ মো. আমিনুর রহমান ( সিনিয়র সহকারি সচিব), সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সখীপুর, টাঙ্গাইল
ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া