বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা :
করোনার প্রকোপ বেড়ে গেছে। নিজে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন। নিয়মিত মাস্ক পড়ুন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। আপনার চারপাশের ঘটনা লিখুন। আমাদেরকে জানান। আমরা প্রকাশ করবো, আমাদের SunstarNews24.com । আপনার প্রতিষ্ঠান প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন। যোগাযোগ- ০১৭২২-৪৫০৪০৬, ইমেইল- juelrana450@gmail.com/info@sunstarnews24.com। আমাদের সাথে থাকুন, ধন্যবাদ সবাইকে।

ভাবনার শেষ কোথায়?

প্রতিনিধি :
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

জুয়েল রানা

বিদ্যা মানুষকে আলোর সন্ধানে নিয়ে যায়। মনুষ্যত্ব প্রসারিত করে। জীবনটাকে করে সুখময় স্বচ্ছন্দপূর্ণ। জয়  তোর কথা হয়তো সত্যি কিন্তু পার্থক্য একটা আছে, আর সেখানে আমি একমত নই  তোর সাথে। কিন্তু কি পার্থক্য?

যদি বলা হয় পানির অপর নাম জীবন। আমি এ কথাটা বিশ্বাস করি, কিন্তু কথা পরিপূর্ণ নয় বলে এ কথটার সাথে আরো সংযোগ করে বলতে চাই এর নাম মরনও। সত্যিটা হলো বিশুদ্ধ পানির নাম জীবন। তেমনি জীবনের একটা নাম সুখ হলেও এর সাথে আরো একটা বাক্য ওতপ্রোতলাবে জড়িত, সে দুঃখ। তাইতো বলতে হচ্ছে শিক্ষা মানুষকে যেমন আলোর পথ দেখায়, ঠিক তেমনি কুশিক্ষা মানুষকে অন্ধাকারে ঠেলে দেয় তাই বলতে হচ্ছে একমাত্র সুশিক্ষাই সঠিক পথ দেখায়। সুশিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিই প্রতিষ্ঠিত।

বিজয় যুক্তি তর্ক দিয়ে কবে পেরেছি? হয়নি সেটা, আবার প্রমানিত। সূর্য যেমন দিগন্তকে ছুঁয়ে যায় নতুবা পৃথিবীকে নতুন করে সাজাতে গর্জে ওঠে পুব আকাশে। রাঙা প্রভাতে সূর্য আলোর ছটা গায়ে মেখে আবার ফিরে আসবো তোর সাথে তর্কে। আমাকে একদিন জিততে দিবিনে বিজয়।

তুই আমাকে হার মানাবি সেই সম্ভবনার বীজের অংকুর গর্জে ওঠতে আমি দেখেছি।

কোন অবস্থা থেকে কে কখন পদ্মদিঘির জল হয়ে শাপলার ডগায় আসন নিবে সে আমাদের মস্তিষ্ককে হার মানায়। কথার আলাপচারিতা তর্ক-বির্তক শেষ হয়েছিল সময়ের চক্রে ।

নীড়ের ঠিকানায় হাঁটতে শুরু করল বিজয়। হঠাৎ একটা দামি গাড়ির ব্রেক কষার বিকট শব্দ। থমকে দাড়াঁল বিজয়। ওর আকাশ চুম্বী স্বপ্নটা দৌড়ে যেন আড়ালে লুকালো। অসম্ভব কিছু, তাকে আটকালো। নিজেকে হঠাৎ করেই যেন অচেনা মনে হলো একটা শব্দে। ম্যাডাম আপনি আমায়…….?

ভয় পেয়েছ?

না।

ম্যাডাম নয় সাবিহা। অবাক হবার কিছু নেই। যদিও আমি দামি গাড়ির, দামি গাড়ির ভিতর বসে থাকা একটা ফুল। যার ঘামের গন্ধটা বাতাসে মিলিয়ে যাওয়াটা থামিয়ে রাখে সিকিউরিটি। যার বাবার ইশারায় চলে এ মহল্লা। আমি সেই বাবার একমাত্র মেয়ে। নামটা আবারও বলছি সাবিহা।  সে জানি।

তবে সংশয় নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। তুমি যে ইয়ারে পড় আমিও সেই ইয়ারে। তুমি যে স্যারের কাছে পাঠ গ্রহন কর,আমিও সেই স্যারের ছাত্রী। তুমি যে রুমে বসো আমিও সে রুমে বসি। ব্যতিক্রম নই বন্ধু ভেবে নাম ধরে ডাকতে পারো। আসল কথাটা হচ্ছে আজ সন্ধ্যায় আমার বাসায় আসবে। তখন সব কথা হবে, কেমন?

হঠাৎ করে গাড়ির পিকাপ বেড়ে গেল। পথের ধুলি, বালিকনা যখন চুম্বন করে গায়ে জড়ালো। আচমকাই আতকে উঠলো বিজয়। ঠিক তখনি বুঝলো আমি নর্দামারই। ওর বাবা যেখানে আবিজাত্যের শীর্ষ আর ঠিক তখনি পাশের বস্তিতে আমার বসবাস। আমার শিক্ষা শেষে ওর বাবার গেটের দারোয়ান হবার যোগ্যতা হয়ত হবে, আর ততক্ষণে ওর অবস্থান সে আমার চিন্তার বাইরে। শিক্ষার কি বৈষম্য প্রকারভেদ। কিন্তু প্রশ্ন আমার সেখানে নয়। প্রশ্ন হচ্ছে- ও কেন হঠাৎ আমায় আপ্যায়নের ডালায় সাজালো। আমার ক্লাসে আমার চেয়ে অনেক স্মার্ট কোয়ালিটি সম্পূর্ণ বালকের অবস্থান আছে। কিন্তু সেখানে আমায় কেন বলে গেল বাসায় যেতে। সেও আবার সন্ধ্যার পরে। সূর্য ডুবার পরেতো রজনীর অন্ধকার। কৃত্রিম কোন আলো ছাড়া চোখ ঝাপসা হয়ে ধরা পড়ে পৃথিবীর সৌন্দর্যটা আবার কখনো হয়তো কোন কিছুরই দেখা মেলেনা। অনুভূতি দিয়ে হাঁটতে হয় অনেক পথ। রাতে বাসায় কেন যাবো? হুকুম যে এ সমাজের রানীর। অমান্য করলে কাল প্রতে্যুষে হয়ত প্রজার অত্যাচারে বিদায় হবে বস্তি থেকে। সে করা যাবে না, যেতে হবে। কিন্তু এমন কি কথা সে এখানে বললোনা আমায়। ইচ্ছে করে হয়তো বলেনি। হয়তো কথাটা নির্জনের। হয়তো কথাটা অতি গোপন। কিন্তু সে কি কথা। হয়তো এমন যদি হয়, আমার কোন ভুল ওর চোখে পড়েছে। সেই শাস্তি হয়তো কৌশলে ডেকে নির্মম আঘাতে ঝলসিয়ে দিবে আমার শরীর। কিন্তু এমন ভুল করেছি বলে মনে পড়েনাতো। জীবনে যে সময় স্বপ্নগুলো সাজাবো বলে ভাবি, ঠিক সেই সময়ে কি কোন কালবৈশাখী ঝড়ের দাবানলে নিজেকে দাবিয়ে দিবে? সেও জানিনে। তবে আমাকে প্রতিকূলতা কাটিয়ে বাঁচতে হবে। প্রতিবাদে সংগ্রামী হয়ে উঠতে হবে। বস্তির মানুষগুলো ওদের কাছে নির্যাতিত, নিপীড়িত, অত্যাচারিত। এভাবে এরা আর কতদিন  শোষণের কাছে জিম্মি থাকবে ওরা। বস্তির মানুষেরা আমাকে নিয়ে হৈ চৈ করে, উচ্ছাস করে। আমি যদি ওদের তরী ডুবিয়ে দিয়ে যাই, তবে আর কোন দিন আলো দেখবে কিনা সেখানে প্রশ্ন থেকে যায়। ওরা আমাকে ধ্রæবতারা ভাবে। ওদের সব ভালোবাসা আমাকে উজাড় করে দেয়। আর আমি যদি আলোর সন্ধান না দিই, ওদের সূর্যটা কোন দিকে। ওদের সচেতন, সজাগ করে তুলতে হবে। ওদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখাবো আমি। সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলব এই আমি। আমি ক্লান্ত হলে ওরা ঘুমিয়ে যাবে। না, আমি তা হতে দিবোনা। দেশে শিক্ষিত হার কমে  গেছে বস্তি, যাযাবর আর বাইজিদের অশিক্ষায়। তাই ওদের শিক্ষিত করা, মানে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। দেশ এগিয়ে যাওয়া মানে পৃথিবীতে দৃঢ় অবস্থান করা। আচ্ছা এমনটি তো নাও হতে পারে? তবে এমন কি কথা রয়েছে যে আমায় বাসায় যেতে হবে? হয়তো এমনটিও হতে পারে যে, তার যৌবন জীবনের অপূর্ণতা আমাকে উপহার দিতে পারে। আচ্ছা যদি লাল টকটকে একটি গোলাপ আমার হাতে দিয়ে বলে বিজয় আমি…….? তখন আমি সেখানে কি বলবো? আমার কথাগুলো যদি অগোছালো হয়ে যায়, অসাবধানতার আচফলং আমাকে গ্রাস করে তখন? আমি যদি নিরব হয়ে যাই, আর সাবিহা যদি চিৎকার করে বলে বিজয় আমি ….আমি…..? না এরকম হতে পারে না। এটা আমার জন্য অন্যায় হয়ে যায়। আচ্ছা যদি এরকম হয় যে, ওর বাসায় আজ বিরাট কোন ভুড়ি ভোজের আয়োজন। সেখানে আমাকে ওর একজন ভালো বন্ধু হিসাবে দাওয়াত করেছে। কিন্তু এতগুলো বছর স্কুল, কলেজ পাড় হয়ে এলাম যে কিনা একটা প্রবাদ বাক্য আওড়ায়নি আমার সাথে, আজ হঠাৎ করেই তার বাসায় আপ্যায়ন। না এটা হতে পারে না। বড়লোকের বিচিত্র রুপ থাকে, বলা যায় না। প্রত্যাকটা মানুষেরই দুইডা করে রুপ, একটা তার বাহ্যিক, অপরটা অভ্যন্তরীন রুপটা তত তাড়াতাড়ি ধরা সম্ভব নয়। যদি ওদের ভুড়ি ভোজের আসরে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সামনে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে এ হল আমাদের পাশের বস্তির টোকাই ছেলে। পড়াশোনা করে। সবরকম সহায়তা করে যাচ্ছি আমি। এই কথাগুলো আওড়িয়ে হয়তো প্রশংসা কুড়াবে ঐ ভদ্র মহলে। যেখানে আমার প্রতিবাদ কন্ঠটা  সাধতে পারবোনা। বস্তির নোংরা মানুষগুলোকে ভালোবাসে এরা। কি মহৎ এদের মন। আচ্ছা সাবিহার কন্ঠে যদি এরকম উচ্চারণ হয় যে সে বলবে তোমাদের বস্তির ছেলে মেয়েদের আবার পড়াশোনা কিসের? তোমার সাথে ক্লাসে বসতে আমার ঘৃনা হয়। তাই তুমি আর ক্লাসে যাবেনা। তোমাদের চাই খাবার, এর বেশি কিছু দিয়ে কি হবে? তার চেয়ে বরং কাল সকাল থেকে আমার বাসায় কাজে লেগে যাও। মাইনে দিবো খাবার পাবে। সেই মুহুর্তে আমার কি বলার থাকবে। আমি সে কথার প্রতিবাদ করতে পারবো? নাকি কাজে লেগে যাবো। আচ্ছা এমনটি যদি হয়, তুমি কি করে এত ভালো ভালো কথা বলো। তোমার কথার স্টাইল আমার খুব ভালো লেগেছে। তুমি তোমার মস্তিষ্ক খাটিয়ে খুব সহজেই অনেক উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে যুক্তি, তর্ক বা সমস্যার সমাধান আনতে পারো। আমার কাছে তুমি প্রশংসার দাবিদার। তুমি তোমার শিক্ষা চালিয়ে যাও। যে কোন পরিস্থিতিতে আমি তোমাকে সাহায্য করবো। আমি ’এনেছি। এ কথাগুলো ঘূর্নিপাকে নিজেকে মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলছে বিজয়। তার ভাবনা একটা এমন কি কথা। তার এই ভাবনাগুলো কখনো গহীন অরন্যের মাঝে পালানোর প্রস্তুতি শেষ করছে। কখনো পাহাড়ে খন্ড খন্ড পাথর হয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। কখনো সমুদ্রের তলদেশে ঝিনুক মুক্ত তৈরীতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। কিন্তু তার ভাবনা শেষ নেই। কল্পনার শেষ নেই, কি হবে সে কথা? ভাবনাই যেন জ্ঞানীর কাজ। কিন্তু এ ভাবনা আমায় পাগল করে তুলবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এমন এক সময় পড়ন্ত বিকেলের মৃদু বাতাস আর শরীরকে ছুঁয়ে গেল। পশ্চিম আকাশে একটু পড়েই লাল বৃত্তটা বিলীন হয়ে যাবে, রজনীর ঝাপসা অন্ধকার ঘটতে শুরু করবে নানাবিদ রহস্যময় ঘটনা। যার বহু ঘটনা থেকে যাবে আমাদের অগোচরে দু’একটা ঘটনা পত্রিকার পাতায় হয়তো দৃষ্টি গোচর হবে। এমন সময় মুয়াজ্জিনের সুকরুন আহবানের আওয়াজ বিদ্ধ করল বিজয়ের কর্নটাকে। বিজয়ের তার শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গকে যেন এক একটা নীতি বাক্য দিয়ে শাসিয়ে নিল। যেন তারা কোন অন্যায় না করে ঐখানে। তারা পরিস্থিতির প্রতিটি প্রশ্নের জবাব যেন শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ঠিকমতো দিতে পারে। এই প্রার্থনা ছিল বিজয়ের। যেতে হবেই উদ্দেশ্য পা চালাল রাস্তায়। পথের দূরত্ব সামান্যই ছিল। অপরাজয়ের জয়িতা যখন আমার নির্মম ভাষায় ইশারা করেছে।

বিজয় কোথায় যাচ্ছিস? বিজয়…? বিজয়কে কেউ একজন ডাকলো। কিন্তু তার সেদিকে কর্নপাত নেই। নিরব ভঙ্গিতে হাঁটছে। কারো আর্তচিৎকারই যেন তার এখন কর্নগোচর হচ্ছেনা। সাদা আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো মুক্ত মেঘ এখন কাঁলো জমাট আব্দতায় একত্রে দায়বদ্ব। হয়তো এখন ঝড়বে ভূমির কোলকে শীতল পরশে চুম্বনের জন্য। কিন্তু কেন যেন ঝড়ছেনা। হয়তো কোন ঐশ্বরিক হুকুমের অপেক্ষা। হয়তো সাদ্যমতো ইচ্ছে ছিলো মুক্ত বিহঙ্গে স্বাধীন ব্যক্তিত্ব। কিন্তু কেন কারো অধীনস্থ না হয়ে কারো কাছে দায়বদ্ধনা হয়েও এমন বদ্ধ জীবন পরিচালিত হয়। জীবনটা যেন একটা অশুভ শক্তির বেড়াজালে আটকে গেছে। এ যুগের এ বৈশম্য কবে যে দূর হবে। কবে দুস্থ, মর্মাহত, তৃষ্ণার্ত মানুষগুলো নিজকে নিজের মতো করে পরিচালিত করতে পারবে সেই শংকাটা আজো করে যাচ্ছি। বিধাতার কাছে প্রার্থনা রয়ে গেল আবর্জনা ডাস্টবিনের ঝাঝালো গন্ধ, পাটশোলা ঘরের খর পাতা ছাউনির চালের নিচে যারা শুয়ে একটু তৃপ্তি খুঁজে তুমি তাদের বঞ্চিত করোনা। যদিও বিজয় কথাগুলো ভাবতে চায়নি। তবুও তার মাথা ঘুর্নিপাকের মতো হ্যারিকেনের গতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে। ঠিক এমন সময় এসে পৌঁছালো সাবিহার বাসার গেটে। বাইরে কলিংবেল চাপ দেওয়ায় একটা আওয়াজ হলো পাখির কিচিরমিচির, যা এখন আর ভোর বেলা শুনা যায়না। সিকিউরিটি গার্ডের কর্নটাকে বড় অসহায়তা ফেলে দিল। কারন আজ সন্ধ্যার পরে কর্ত, কর্ত গিন্নী বেড়িয়েছে। বড় আয়োজনের উদ্দেশ্য। তবে গেটম্যান ঠিক বুঝতে পেরেছে আজ ফিরতে অবশ্যই দেরী হবে। আপামনি বের হবেননা, অতএব এই সুযোগে আমি একটু বিশ্রাম নেই। বিশ্রামের প্রস্তুতির সম্পন্ন শেষে তাকে এমন একটা শব্দ শুনতে হবে সে জন্য প্রস্তুত ছিলনা। দায়িত্বের অবহেলায় চাকরিচ্যুত হতে হবে। তাইতো তাকে দ্রæত গেট খুলতে হলো। দেখতে পেল একজন আগন্তুক দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞেস করল আপনি কে?

ও, আমি বিজয়।

কি চাই?

সাবিহার সাথে দেখা করতে চাই।

সিকিউরিটি গার্ড একটু বিব্রত হলেন। একটু থতমত খেয়ে বললেন,আচ্ছা আমি জেনে নেই। ফোন করলেন সাবিহার কাছে। বললেন বিজয় নামের এক ভদ্রলোক আপনার সাথে দেখা করতে চায়। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কি বলা হলো তা আর বিজয় জানলোনা। ফোনটা রেখে বললো সিঁড়ি দিয়ে সোজা তিন তলায় উঠে বামে একেবারে পূর্বের রুমে নক করবেন। দেখবেন দরজার পাশে রয়েছে লাল টকটকে গোলাপের টপ। খাঁচায় বন্দি একটা ময়না। বারান্দায় ও রেলিং এ রয়েছে কিছু তৈজসপত্র পরিপাটি করে সাজানো। বিজয় আর কোন কথা না বলে সোজা বাসার ভিতরে প্রবেশ বরলো এবং হাটতে শুরু করলো। বাইরের পরিবেশটার সাথে সে যতটা পরিচিত এবং খুব সহজে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতোই যোগ্যতা রাখে বিজয়। কিন্তু এ এক অভূত পরিবেশ যেখানে নিজের শরীরটাকেও অপরিচিত মনে হচ্ছে। তবু চারদিকটা খুব ভালো করে দেখে নিয়ে নিজের ভয় হতাশা দমিয়ে কিছুটা আশা আর সাহস সঞ্চয় করে এগুতে শুরু করলো বিজয়। আভিজ্যাতের বিলাশ বহুল বাড়ির প্রথম সিঁড়িতে একটু হুচট খেল বিজয়। আজ হয়তো আমার শনির দশা। ধীরে ধীরে পৌছে গেল তিন তলায়। সিঁড়ির দুপাশে বসানো সারিসারি ফুলের টব। তিনতলা থেকে নিচের দিকে তাকাতেই চোখে নজর গোছর হলো সুসজ্জিত একটি বাগান। যেখানে বিচিত্র রকমের বাহারি ফুলের সমাহার। মোহমোহ গন্ধ। নিঃশ্বাসের বাতাসের সঙ্গে মিশতে ভীড় জমাচ্ছে। যদিও রাত তবুও বোঝবার উপায় নেই যেন সূটা পশ্চিম আকাশে লুকিয়ে গেছে বহুক্ষণ আগে। বাড়ির চারি আঙ্গিনায় প্রয়োজনের চেয়ে অকেন বেশি কৃত্রিম প্রজ্জলিত আলোর খেলা চলছিল। আবেগ উদ্বেগের কন্ঠে কে যেন ডাকলো বিজয়।

ঘাড় ঘোরাতেই সাবিহার মুলায়েম মুখ খানা দৃষ্টি গোছর হল বিজয়ের। আকাশি রঙের একটা শাড়ি, মেজ করা রøাউজ ও দামি পারফিউম। মুখে হালকা মেকাপে মৃদু প্রলেপ টেনে দেওয়া হয়েছে হয়তো। এযেন রুপ নয়। এ যেন লুকিয়ে থাকা বিশাল প্রজ্জলিত আলো যা তার মুখ খুলে দিয়েছে। এখন যেন চন্দ্র, সূর্য, তারকা-পুঞ্জ দুই হাত জোড় করে হার মেনে লুকাবে। আর এই রাজত্বতো আপনার। আমাদের আলো তো বিলিন হয়ে গেছে আপনার গুহার মুখ খুলো দেবার পর পরই। চোখে কাজল আর ঠোঁটে সেতো কোন প্রসাধনী নয়, সে যেন মুখ গহŸরের একটু লালা জিহŸার ডগায় এসে হালকা প্রলোপ দিয়েছে ঠোঁটের ওপর।

বিজয় কি ভাবছ? রুমে আসো।

সাবিহার মনের আনন্দের তরঙ্গ বয়ে যাচ্ছে তা বুঝা যাচ্ছে তার চেহেরা দেখে। আনন্দের কম্পনের মাঝে যেন নিজের শরীরটা দোলছে। আবার মৃদু কন্ঠের ডাক বিজয় রুমে আসো। ধ্যান মগ্নের মতোই চমকে উঠলো বিজয়। বিজয় রুমে প্রবেশ করলো। সাবিহা রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো। তবে কোন সমস্যা নেই কৃত্রিম আলো প্রজ্জলিত ছিল। কিন্তু তার রুমের জানালাগুলো বন্ধ করে দিলো। বাইরে মৃদু বাতাসের সাথে মিলিয়ে যে শীতল পরিবেশ আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তা যেন কিছুটা বিকৃতি ঘটলো। সাবিহার গায়ের পোষাক তা যেকোন পুরুষকে লোভনীয় করে তুলবে। গরীবেরা যেমন প্রশ্ন করে থাকে ধনীরা এত ছোট করে কাপড় তৈরি করে কেন? ওদের বোধয় টাকা পয়সা ভাঙ্গতে কৃপন বেশী। ওরা এজন্য পৃথিবীর সবচেয়ে গরীব।

বিজয়?

হুম।

কি ভাবো?

না।

আমি দরজা জানালা বন্ধ করছি। এরপর বিদ্যুতের সুইচটা অফ করে দিবো।

কথাটা শ্রবন করার সাথে সাথে বিজয় চমকে উঠলো। শিহরিত হয়ে উঠলো শরীর। গায়ের লোম যেন দাড়িয়ে গেল। এখন যদি আমাকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করে তবে আমার কি করার থাকবে। আমাকে যদি বলে বিজয় আমার সাড়া শরীর চুমুয় চুমুয় ভরিয়ে দাও। আমাকে যদি বলে আমার গায়ের কাপড়গুলো খুলে খুলে ছুড়ে ফেলে দাও। তোমার গায়ের কাপড় রাখা যাবেনা। আমার মনের যৌবনের তৃপ্তায় সুখগুলো কানায় কানায় ভরিয়ে দিতে হবে তোমাকেই। বাসায় আজ কেই নেই। আজ এই নির্জনতার সুযোগে তোমাকে ডেকেছি আমি। তুমি হয়তো জানোনা, “মেয়েরা সুযোগ সন্ধানের অভাবে সতী” সুযোগ পেলে তারা যেন উন্মাদ হয়ে যায়। তুমিতো বস্তির ছেলে তোমাকে দিয়ে এ কাজ করালে সে হবে এক অবাস্তব কাহিনী। এই জন্য তোমাকে আমি ডেকেছি। কি হলো বিজয় তুমি ধীরে ধীরে বিছানার দিকে এগিয়ে আসো, ভয় পেয়োনা। এতোক্ষণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বিজয়। তার সাড়া শরীর দিয়ে ঘাম ঝড়ছে। এখন যেন পৃথিবীর সমস্ত পারফিউম বা তার কারখানাও যদি শরীরে ঢেলে দেওয়া হয় তবে যেন ঘামের। দূগন্ধটা দমিয়ে রাখতে পারবেনা। তবে এর শেষ কোথায়। এই অবস্থার সামাল দিতে হবে, এই ভেবে সাহস সঞ্চার করলো যে, বাবার জীর্ন কুটির থেকে যখন এক ফোটা বিষাক্ত অবর্জ্য পানি মায়ের ডিম্বানুতে প্রবেশ করে, সেখানে লক্ষ লক্ষ ভ্রুণ থাকে। এই লক্ষ লক্ষ ভ্রুণ সংগ্রাম করে একটি মাত্র ভ্রুণ ডিম্বানুতে প্রবেশ করে। সেই ভ্রুণটিই হলাম আমি বা আমরা। সেখান থেকে বিজয়ের বেশে আগমন ঘটেছে পৃথিবীতে। তবে কেন হারার ভয়, হেরে যেতেতো আসিনি পৃথিবীতে। ভাবনার শেষ নিগুড় তথ্য কোথায় তার শেষ পরিণতি আমাকে দেখতে হবে। অবশ্যই দেখতে হবে। কি বিজয় এসো, আমার নিকট এসো। বিজয় এবার এক পা এক পা করে আগাতে লাগলো অন্ধকারের মাঝে। তবু যেন কী একটা হতাশা। এক পা বাড়ালো মনে হয় দু’পা পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনটিতো হবেই এযে আজই প্রথম। যারা বাসর কাটিয়েছে তারা হয়তো সাহস পাবে অনেক। বিজয়ের পা এগোনোর গতির চেয়ে পিছনের গতি হয়তো দ্রুত ছিলো। তবুও একটু একটু করে এগুচ্ছে। যতক্ষণে সাবিহার খাটের কাছে গিয়ে পৌঁছাল। সাবিহা তা আচ করতে পেরে বলল বিজয় দাড়াও। বিজয় দাড়িয়ে গেল। সাবিহার খাটের কাছে যে টেবিল তার ড্রয়ার খুললো। ড্রয়ার থেকে চকচকে প্লাটিনামের একটি ঘড়ি বের করলো। আর এও বললো যে গতকাল ক্রয় করেছি। ঘড়িটি আলো দেয়। অন্ধকার না হলে আলোটা দেখা যায়না। তাইতো এতো অন্ধকার বানালাম। ঘড়িটি বিজয়ের খুব কাছাকাছি এনে ভীষন কৌতুহলে বলল, দেখ বিজয় আমার ঘড়িটা কত সুন্দর আলো দেয় তাইনা?

 

Spread the love
আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট
এ সংক্রান্ত আরও খবর
filme porno minori porno cu copii porno cu animale porno cu cai filme porno cu minori filme porno cu copii porno cu minori minori xxx minori violati porno cu minori 12 ani filme porno
© All rights reserved © 2021 SunStar
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com